সেই সময়
লেখক : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
.
.
আপনি যদি বলেন সেই সময় ইতিহাস নিয়ে লেখা, আমি অসংগতি জানাবো না। সেখানে ইতিহাস আছে।
আপনি যদি বলেন সেই সময় সমাজ ব্যবস্থা,সংস্কৃতি কিংবা নবসংস্করণ নিয়ে লিখা, আমি তাতেও অসংগতি জানাবো না। এতে তা ও আছে।
আপনি যদি বলেন এ মানুষের চিন্তাভাবনার ধরন নিয়ে লেখা আমি তাতেও সম্মত।
কিন্তু যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন সেই সময় কি নিয়ে লেখা, আমি লেখকের মতোই বলবো, সময় নিয়ে লেখা।
উপন্যাসের সবচেয়ে ভালো লাগার দিকটি হচ্ছে, লেখক সমান মনোযোগ দিয়েছেন সমাজের মানুষের চিন্তাভাবনা, এবং সকল চরিত্র গুলোর এগিয়ে চলার দিকে।উচ্চ শ্রেনী যেমন বিশদ বিবরণ পাওয়া গেছে তেমনি নিন্ম শ্রেণির ব্যপারেও বর্ণনা কম নয়। ইতিহাস ব্যপারেও ছিলেন সমান সতর্ক।
.
চরিত্র বিশ্লেষণ :
বাস্তব চরিত্র গুলো যেমন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, হরিশ্চন্দ্র কিংবা ইয়ং বেঙ্গল সবার চরিত্রই ছিলো নিজস্বতায় সতন্ত্র।
.
অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে,
চন্দ্রনাথ, ভুজঙ্গধর দুইটা ক্যারেক্টর আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
যদিও চন্দ্রনাথ সম্পর্কে শেষটা একটু কনফিউশন রেখে দিয়েছে মনে হলো।
চরিত্রে বিন্দুকে যখন ফিরে পেয়েছি যতটুকু আনন্দ পেয়েছি ঠিক ততোটুকুই খারাপ লেগেছে দুলালের ট্রাজেডি।
নবীনকুমারকে ঘিরেই কাহিনি রচিত হয়েছে। কিন্তু এই চরিত্রটাকেই কেমন খাপছাড়া ভাব মনে হয়েছে। অনেক কীর্তি করতে গিয়ে সব যেন ফিকে হয়ে গেলো।
গঙ্গানারায়ণকে যদিও লেখক ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলো তবুও কেন যেন মনে হলো নিষ্প্রভ।তার চরিত্রে আরেকটু নিজস্বতা রাখলে ভালো হতো।
বিধুশেখর চরিত্রটি ধুরন্ধর দেখাতে চাওয়া হয়েছে কিন্তু কেন যেন মনে হয় এই চরিত্রটির আরো কিছু বর্ণনা করলে ভালো হতো। কিছু চতুরতা প্রকাশ চাইলেই করা যেতো।
শেষটায় মনে হয়েছে,
কিছু সত্য হয়তো মানুষ ইচ্ছে করেই পিছন ফিরে রাখতে চায়। তারা অপরাধী হতে চায় না। হয়তো এই সুবিধার জন্যই স্রোষ্টা শুধু সামনের দিকে আমাদের চোখ দিয়েছেন।


No comments